
নারী কেলেঙ্কারিতে হাতেনাতে ধরা পড়লেন কোটিপতি কাজী হেলাল, উত্তম মধ্যম দিয়ে ছাড়
তথ্য ও ভিডিও চিত্রে বসন্ত টিভি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়নের কোটিপতি নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে পরকীয়া ও নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি এক গৃহবধূর সঙ্গে অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকার সময় এলাকাবাসী তাকে হাতেনাতে ধরে উত্তম মধ্যম দেয়। এ ঘটনার একটি ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল।
জানা যায়, গত ২৫ জুন গভীর রাতে সোনারামপুর ইউনিয়নের চরমরিচাকান্দি গ্রামের বিলপাড় মহল্লায় এক ট্রাক চালকের স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়েন কাজী হেলাল। পরে এলাকাবাসী উত্তম মাধ্যম দিলেও, কাজী হেলাল কিছু যুবককে ‘ম্যানেজ’ করে সেখান থেকে পালিয়ে যান।
এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, এর আগেও একই নারীর সঙ্গে এমন ঘটনায় ধরা পড়লেও তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার হনুফা বেগম বলেন, "এই কাজী একজন দুশ্চরিত্র ব্যক্তি। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার।" ওয়ার্ড মেম্বার জামাল মেম্বার বলেন, "তদন্ত করে তার নিকাহ রেজিস্ট্রার পদ বাতিল করা হোক।"
সূত্র জানায়, সাবেক এমপি ক্যাপ্টেন তাজের ভাগিনা জনি চেয়ারম্যানের সুপারিশে ২০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে তিনি কাজীর পদে আসেন। শুরুতে আওয়ামী লীগের পরিচয় দিলেও এখন নিজেকে বিএনপি ঘরানার দাবি করে থাকেন।
কাজী হেলালের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই বাল্যবিবাহ, অতিরিক্ত কাবিন ফি আদায়, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। একাধিক যুবক অভিযোগ করে বলেন, কাবিননামা নিতে গেলে ১১ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করেন তিনি।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা বলেন, “বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা রেজিস্ট্রার খালিদ মোহাম্মদ বিন আসাদ বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, কাজী হেলাল উদ্দিন বাল্যবিবাহ নিবন্ধনসহ নানা অনিয়ম করে কোটি টাকার মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এত অভিযোগের পরও তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।