
ডেস্ক রিপোর্ট
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় নিজের শালীকে (১২) ধর্ষণের অভিযোগে করিম মিয়া (শান্ত) (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) দিবাগত রাতে উপজেলার ছলিমাবাদ গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। শুক্রবার গভীর রাতে পুলিশ করিম মিয়াকে গ্রেফতার করে এবং শনিবার সকালে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, করিম মিয়া ছলিমাবাদ গ্রামের মৃত হাসান মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় কৃষক। তার স্ত্রী খাদিজা সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। অন্তঃসত্ত্বা বড় বোনের সেবা-শুশ্রূষার জন্য ছোটবোন (ভিকটিম) কিছুদিন আগে বোনের বাড়িতে আসে। ঘটনার রাতে তিনজন একই বিছানায় ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত আনুমানিক ১টার দিকে করিম মিয়া মুখ চেপে ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে নিজের শালীকে ধর্ষণ করে।
ভিকটিম বিষয়টি পরদিন সকালে তার মাকে জানায়। এরপরই তার পিতা আক্কাস মিয়া দ্রুত থানায় গিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
ভিকটিম বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত মিলেছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
ভিকটিমের বাবা আক্কাস মিয়া বলেন,"করিম আমার জামাই হয়েও এমন জঘন্য কাজ করেছে। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো মেয়ে কিংবা কোনো পরিবারকে এমন নির্যাতনের শিকার না হতে হয়। আমার মেয়ের জন্য ন্যায়বিচার চাই।"
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম চৌধুরী বলেন,"ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে আসামি করিম মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। ভিকটিমের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করা হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে চার্জশিট দাখিলের প্রক্রিয়া চলছে।"
ওসি আরও জানান,"ধর্ষণের ঘটনা তদন্তে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। অভিযুক্ত করিম মিয়ার অতীতে ছোটখাটো অপরাধের রেকর্ড ছিল বলেও জানতে পেরেছি। তদন্তে সেগুলোও বিবেচনায় নেয়া হবে।"
এলাকাবাসীরা জানান, করিম মিয়া দেখতে শান্ত-ভদ্র হলেও তার বিরুদ্ধে এর আগেও মেয়েদের উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ উঠেছিল। তবে এত বড় অপরাধের কথা কেউ ভাবতে পারেনি। এলাকাবাসীর দাবি, করিমের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।