
বাঞ্ছারামপুরে গৃহবধূর মৃত্যু: দীর্ঘদিনের নির্যাতনের অভিযোগ, স্বামী পলাতক
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার হায়দনগর দক্ষিণ পাড়া গ্রামে মরজিনা আক্তার (স্বামী: হুমায়ুন কবির) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (১২ এপ্রিল) কেরির বড়ি খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে ঢাকায় নেওয়ার পথে ফেরিঘাট এলাকায় তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহ ও স্বামীর একাধিক বিয়েকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে মরজিনা আক্তারের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, ছেলে সন্তানের আশায় হুমায়ুন কবির একাধিক বিয়ে করেন। তার আগের স্ত্রী ঝরনা বেগমও রয়েছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, অতীতেও মরজিনাকে আগুন দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। রমজান মাসে তার মাথায় কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের আগেও মরজিনার ওপর নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে পূর্বে একটি মামলাও করেছিলেন বলে জানা গেছে।
রবিবার স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছিল। সেখানে দেড় বছরের সন্তানকে পিতার কাছে রাখার সিদ্ধান্ত হয় এবং মরজিনাকে ৫ লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব আসে বলে জানা যায়। স্বজনদের অভিযোগ, এই ঘটনার পরই মরজিনা আক্তার কেরির বড়ি খেয়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন।