কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে যাচাই ও প্রস্তাবিত কমিটির অনুমোদন স্থগিতের দাবি; জেলা সমিতির কাছে আবেদন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর দলিল লেখক সমিতির কমিটি গঠন নিয়ে প্রশ্ন ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সমিতির শতাধিক সদস্যের মধ্যে ৪২ জনের ভোটাধিকার ও মতামত প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সদস্যদের একটি অংশ। তাঁদের দাবি, সব সদস্যের অংশগ্রহণ ও মতামত গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত না করে প্রস্তাবিত কমিটির অনুমোদন দেওয়া হলে সমিতির অভ্যন্তরীণ বিরোধ আরও বাড়তে পারে।
কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়ে জেলা দলিল লেখক সমিতির কাছে লিখিত আবেদন করবে বলেও জানিয়েছেন দলিল লেখক মো. কামাল হোসাইন। তাঁর দাবি, উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই এবং সব সদস্যের মতামত গ্রহণের ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত প্রস্তাবিত কমিটির অনুমোদন স্থগিত রাখা হোক।
মো. কামাল হোসাইনের দাবি, সমিতির প্রতিটি সদস্যের ভোটাধিকার ও মত প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত গ্রহণের কথা বলা হলেও যাঁরা অংশগ্রহণের সুযোগ পাননি বলে অভিযোগ করছেন, তাঁদের বক্তব্য উপেক্ষা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সমীচীন হবে না। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা প্রয়োজন।
নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন
কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও তিন দলিল লেখক বলেন, নির্বাচনের আগে যথাযথভাবে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল কি না, সব সদস্যকে নির্বাচনের বিষয়ে অবহিত করা হয়েছিল কি না এবং সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন পদে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল কি না, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
তাঁদের মতে, ভোটার তালিকা প্রণয়ন, নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা, প্রার্থীদের অংশগ্রহণ, ভোট গ্রহণ ও ভোট গণনার ক্ষেত্রে কী পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে, তা সদস্যদের সামনে তুলে ধরা উচিত। কোনো সদস্য ভোট দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকলে তাঁর অভিযোগ যাচাই করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
৪২ সদস্যের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন
সদস্যদের একাংশের প্রশ্ন, শতাধিক সদস্যের একটি সমিতিতে ৪২ জনের ভোটাধিকার ও মতামত প্রকাশের বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ থাকলে তা নিষ্পত্তি না করে কীভাবে প্রস্তাবিত কমিটির গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা হবে?
তাঁদের মতে, কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তা এড়িয়ে না গিয়ে সংশ্লিষ্টদের উচিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া। এতে সদস্যদের মধ্যে তৈরি হওয়া সংশয় দূর হওয়ার পাশাপাশি সমিতির কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে।
গঠনতন্ত্র মেনে কমিটি গঠনের দাবি
মো. কামাল হোসাইন ও তাঁর দাবির প্রতি সমর্থন জানানো সদস্যদের বক্তব্য, দলিল লেখক সমিতি কোনো ব্যক্তির একক সিদ্ধান্তে পরিচালিত হওয়ার প্রতিষ্ঠান নয়। এটি সব সদস্যের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষার সংগঠন। তাই কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের পরিবর্তে সমিতির গঠনতন্ত্র, প্রচলিত বিধিবিধান এবং সদস্যদের ন্যায্য অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দিতে হবে।
তাঁদের আশঙ্কা, উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সুরাহা না করে প্রস্তাবিত কমিটির অনুমোদন দেওয়া হলে সদস্যদের মধ্যে বিভক্তি ও অনাকাঙ্ক্ষিত বিরোধ দেখা দিতে পারে। এতে সমিতির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সদস্যদের পারস্পরিক সম্পর্কের অবনতিও হতে পারে। এ পরিস্থিতি এড়াতে জেলা দলিল লেখক সমিতির দায়িত্বশীলদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন মো. কামালসহ অন্যানরা।
নিরপেক্ষ তদন্ত ও অনুমোদন স্থগিতের দাবি
দলিল লেখকদের দাবি, অভিযোগগুলো যাচাই না করে এবং ভোটাধিকার ও মত প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত না করে প্রস্তাবিত কমিটির অনুমোদন দেওয়া উচিত হবে না। প্রয়োজনে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধানে সদস্যদের পুনরায় মতামত গ্রহণ অথবা বিধিসম্মত নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে সবার অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়।
তাঁদের মতে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তি শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত নয়; প্রত্যেক সদস্যের অধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও ন্যায়সংগত অংশগ্রহণও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই ৪২ সদস্যের ভোটাধিকার নিয়ে ওঠা প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব এবং কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।