
বাঞ্ছারামপুর নদী দখল করে মাছ শিকার — প্রশাসন উচ্ছেদ করলো অবৈধ দখল
বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে তিতাস নদী দখল করে অবৈধ মাছেরঘের স্থাপনকারী মৌসুমি রাজনৈতিক ব্যক্তি জসীম মাষ্টারের দখলদারিত্ব থেকে নদী উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন।
রোববার (২ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার দরিয়াদৌলত ইউনিয়নের কালাইনগর এলাকার তিতাস নদীতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রবিউল হাসান ভূঁইয়ার নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের সময় অভিযুক্তদের কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় গ্রামবাসীর সহযোগিতায় নিষিদ্ধ ঘেরের বাঁশ কেটে উচ্ছেদ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।
এসময় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাঈদা আক্তার এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সহায়তা করেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রবিউল হাসান ভূঁইয়া জানান—
“নদী দখল করে মৎস্য চাষ করা মোটেই অনুমতিপ্রাপ্ত নয়, অভিযোগের ভিত্তিতেই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।”
প্রসঙ্গত, স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে পরিচিত জসীম মাষ্টার প্রায় ১ কিলোমিটার দীর্ঘ নদী দখলে রেখে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাছ চাষ করছিলেন বলে অভিযোগ। সাধারণ মানুষকে নদীতে মাছ ধরতে দেয়া হতো না; প্রতিবাদ করলে হামলার শিকার হতে হতো।
গত সপ্তাহে এলাকাবাসী লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।
অভিযোগের পর জসীম মাষ্টার নিজেকে জামায়াতের রাজনীতি করে এমন একটি ভিডিও প্রকাশ করলেও উপজেলা জামায়াত ইসলামের আমীর তা নাকচ করেন। পরে বিএনপি নেতা জাকির হোসেনকে মারধর করে মেরে ফেলে রাখার অভিযোগে জসীম মাষ্টারের লোকজন জড়িত থাকার ঘটনাও এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
সবশেষে, আজকের অভিযানে কোটি টাকার ঘের ভেঙে দিয়ে নদী সাধারণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয় প্রশাসন।
এতে স্থানীয়রা প্রশাসনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে জসীম মাষ্টারের শাস্তি দাবি করেছেন।
উল্লেখ্য, এই ঘটনা নিয়ে বসন্ত টিভিতে গত ১১ অক্টোবর বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।