
বারিধারার ডি মার্জেন্ট গির্জায় দস্যুতা: লুট হওয়া টাকা-পাসপোর্ট উদ্ধার, গ্রেফতার ৩
সিসিটিভি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ভাটারা থানা পুলিশের অভিযানে চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদঘাটন
মোঃ সোহাগ ইসলাম
ক্রাইম রিপোর্টার, ঢাকা
রাজধানীর ভাটারা থানাধীন বারিধারার ডি মার্জেন্ট গির্জায় সংঘটিত দস্যুতার ঘটনায় দ্রুত অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় লুট হওয়া নগদ অর্থ, পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্রসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ২৮ এপ্রিল ২০২৬ রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে মুখোশধারী কয়েকজন দুষ্কৃতিকারী গির্জার দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে। প্রথমে তারা স্টাফদের কক্ষ বাইরে থেকে বন্ধ করে দেয়। পরে গির্জার পরিচালক ফাদার সুবাস পুলক গোমেজের অফিস কক্ষের গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে তাকে বেঁধে ফেলে। এরপর আলমারি ভেঙে প্রায় আড়াই লাখ টাকা, একটি পাসপোর্ট, একটি জাতীয় পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র লুট করে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই পুলিশ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে সন্দেহভাজন একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা শনাক্ত করা হয়। এরপর কয়েক হাজার রিকশা ও চালকের তথ্য যাচাই-বাছাই করে আক্তার হোসেন মনা নামে এক চালককে চিহ্নিত করা হয়।
পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সূত্রের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে মুগদা এলাকা থেকে আক্তার হোসেন মনাকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা ও এক লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লক্ষ্মীপুরের চরাঞ্চল থেকে মোহাম্মদ নিজাম মিজানকে এবং পরে খিলক্ষেত এলাকা থেকে মূল পরিকল্পনাকারী আবুল হোসেন রতন ওরফে হাবুকে গ্রেফতার করা হয়। হাবুর কাছ থেকেও লুট হওয়া এক লাখ টাকা, একটি পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রতনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। অন্য দুইজনের বিরুদ্ধেও পৃথক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। তারা মূলত মাদকাসক্ত ও অনলাইন জুয়ায় আসক্ত। এসব খরচ জোগাতে তারা দস্যুতা, চুরি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিল।