
আশরাফ হোসেন কাজল
প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি
সুজন স্মৃতি পরিষদ
আজ ৩ জুলাই। বাঞ্ছারামপুরের গণমানুষের প্রিয় নেতা, সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম শাহজাহান হাওলাদার সুজনের ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী। সময়ের পরিক্রমায় পেরিয়ে গেছে দীর্ঘ পঁচিশ বছর, কিন্তু মানুষের হৃদয়ে তাঁর অবস্থান আজও অম্লান। তাঁর স্মৃতি, কর্ম এবং জনসেবার আদর্শ এখনো বাঞ্ছারামপুরের মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
শাহজাহান হাওলাদার সুজন ছিলেন এমন একজন নেতা, যিনি রাজনীতিকে ক্ষমতার হাতিয়ার নয়, মানুষের কল্যাণের মাধ্যম হিসেবে দেখতেন। সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ, আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং ন্যায্য অধিকার আদায়ের সংগ্রামে তিনি সবসময় ছিলেন অগ্রণী। তাঁর দরজা ছিল সর্বস্তরের মানুষের জন্য উন্মুক্ত। দল-মত নির্বিশেষে মানুষ তাঁর কাছে আসত, আর তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে তাদের কথা শুনতেন।
সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বাঞ্ছারামপুরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা বিস্তার, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে এলাকার উন্নয়নের যে ভিত্তি নির্মিত হয়েছিল, তার সুফল আজও মানুষ ভোগ করছে।
শিক্ষার প্রতি তাঁর ছিল বিশেষ অনুরাগ। তিনি বিশ্বাস করতেন, শিক্ষিত সমাজই পারে একটি অঞ্চলকে এগিয়ে নিতে। তাঁর স্মৃতিকে ধারণ করে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আজও সেই আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্ম তাঁর নামের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে তাঁর কর্ম ও অবদানের মধ্য দিয়ে।
মরহুম সুজন ছিলেন সততা, মানবিকতা ও জনকল্যাণের এক উজ্জ্বল প্রতীক। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরাও তাঁর ব্যক্তিত্ব, সৌজন্যবোধ এবং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রশংসা করতেন। তিনি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন তাঁর কর্মের মাধ্যমে, যা কোনো পদ-পদবির চেয়ে অনেক বড় অর্জন।
২০০১ সালের ৩ জুলাই তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাঞ্ছারামপুর একজন নিবেদিতপ্রাণ জননেতাকে হারায়। কিন্তু একজন মানুষের শারীরিক মৃত্যু ঘটলেও তাঁর আদর্শ ও কর্ম কখনো হারিয়ে যায় না। শাহজাহান হাওলাদার সুজনও তেমনি এক ব্যক্তিত্ব, যিনি তাঁর কর্মের মাধ্যমে আজও জীবন্ত।
তাঁর ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করছি। মহান আল্লাহর কাছে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানাই, তারা যেন তাঁর আদর্শ, সততা, মানবিকতা ও জনসেবার চেতনাকে ধারণ করে একটি সুন্দর, উন্নত ও মানবিক সমাজ গঠনে এগিয়ে আসে।
তাঁর ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করছি এবং মহান আল্লাহর কাছে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। একই সঙ্গে গভীর বেদনার সঙ্গে স্মরণ করছি যে, মরহুম শাহজাহান হাওলাদার সুজন হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ২৫ বছর অতিবাহিত হলেও এ ঘটনার বিচার আজও সম্পন্ন হয়নি। এটি শুধু তাঁর পরিবারের জন্য নয়, বাঞ্ছারামপুরবাসীর জন্যও এক গভীর বেদনার বিষয়। আমরা বিশ্বাস করি, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে এবং আইনের শাসনের প্রতি মানুষের আস্থা অটুট রাখতে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার হওয়া প্রয়োজন। সুজন স্মৃতি পরিষদের পক্ষ থেকে আমরা মরহুম শাহজাহান হাওলাদার সুজন হত্যার বিচার দাবি করছি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।
মরহুম শাহজাহান হাওলাদার সুজন আমাদের স্মৃতিতে, আমাদের ভালোবাসায় এবং বাঞ্ছারামপুরের ইতিহাসে চিরকাল বেঁচে থাকবেন।