বাঞ্ছারামপুর প্রতিনিধি
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব পদে আরও এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আইয়ূবপুর গ্রামের সন্তান মোঃ এহছানুল হক। আগের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ধারাবাহিকতা বজায় রেখে তাঁকে পুনরায় এ পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
সোমবার (১৭ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৯ ধারা অনুযায়ী জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী ১৮ আগস্ট ২০২৬ থেকে নতুন মেয়াদ কার্যকর হবে এবং এহছানুল হক এক বছর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তবে এ সময়ে অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক রাখা যাবে না।
১৯৮২ ব্যাচের বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা এহছানুল হকের রয়েছে দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা। কর্মজীবনে তিনি মাঠ প্রশাসন থেকে শুরু করে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি সহকারী কমিশনার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে মাঠ প্রশাসনে কাজ করেছেন। পরবর্তীতে বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবং ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বও পালন করেন।
সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এছাড়া প্রধান উপদেষ্টা/প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সচিবসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন।
অর্থ বিভাগ ও জননিরাপত্তা বিভাগেও তাঁর দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
এহছানুল হক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাববিজ্ঞানে স্নাতক এবং ফিন্যান্সে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে আইন বিষয়েও স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।
প্রশাসন, অর্থনীতি ও নীতিনির্ধারণ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে দেশ-বিদেশে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের ফিস্ক ইউনিভার্সিটি এবং নিউইয়র্কের সিটিকর্প স্কুল অব গ্লোবাল ফিন্যান্সে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পাশাপাশি থাইল্যান্ডে দারিদ্র্য বিমোচন বিষয়ক বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
এহছানুল হকের পুনঃনিয়োগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর জন্মস্থান বাঞ্ছারামপুরের আইয়ূবপুরসহ স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দ দেখা দিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দায়িত্বে তাঁর পুনর্নিয়োগকে এলাকার জন্য সম্মানের বিষয় হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় আগামী এক বছর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে তিনি সরকারি প্রশাসন পরিচালনায় ভূমিকা রাখবেন।