জুলাই শহীদ পরিবারের মাঝে ধর্মমন্ত্রীর উপহার সামগ্রী প্রদান
চাঁদনী আক্তার
বাংগরা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে জুলাই আন্দোলনে মুরাদনগরের ৫জন শহীদ পরিবারের হাতে উপহার সামগ্রী তুলে দেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। মন্ত্রী হওয়ার পর শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) প্রথমবার নিজ সংসদীয় আসনে সফরে এসে এলাকার ৫জন জুলাই শহীদ পরিবারের হাতে উপহার সামগ্রী হিসেবে বিভিন্ন ধরনের ফল ও খেজুরের প্যাকেট তুলে দেন।
এ সময় মন্ত্রীকে কাছে পেয়ে এবং মন্ত্রীর কাছ থেকে উপহার পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন শহীদ পরিবারের সদস্যরা। তারা বলেন, কায়কোবাদ দাদা মন্ত্রী হওয়ার আগে থেকেই আমাদের পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন। আমাদেরকে সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন, নতুন ঘর করে দিয়েছেন। আমরা ওনার কাছে কৃতজ্ঞ।
শহীদ আবুল হোসেনের স্ত্রী বলেন, আমার স্বামী শহীদ হওয়ার পর কায়কোবাদ দাদা ও ওনার ছোট ভাই আরেফিন সাহেব আমার পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন। আমাদেরকে অনেক সাহায্য সহযোগিতা করেছেন। আমরা থাকার জন্য একটা নতুন করে ঘর তৈরি করে দিয়েছেন। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া উনি মন্ত্রী হয়েছেন। আল্লাহ উনাকে নেক হায়াত দান করুন।
জুলাই শহীদ সাব্বিরের মা বলেন, আমার ছেলে গুলি খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর কায়কোবাদ দাদা ও ওনার ছোট ভাই আরেফিন সাহেব হাসপাতালের চিকিৎসার খরচ চালিয়েছেন। আমাদের খোঁজ খবর রেখেছেন। আজকে মন্ত্রী হওয়ার পর আমাদেরকে ওনার বাড়িতে এনে রমজানের উপহার সামগ্রী দিয়েছেন আমরা ওনার প্রতি কৃতজ্ঞ।
ধর্মমন্ত্রীর ছোট ভাই কাজী শাহ আরেফিন শহীদ পরিবারের মাঝে রমজানের উপহার সামগ্রী বিতরণ কালে বলেন, জুলাই আন্দোলনে নিহত হওয়া শহীদ পরিবারের জন্য আমাদের এটি একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস। বিগত দিনে কায়কোবাদ দাদা উনাদেরকে সাহায্য সহযোগিতা করে আসছে। তিনটি পরিবারকে থাকার জন্য নতুন করে ঘর করে দিয়েছেন। তাছাড়া আমাদের দলীয় নেতাকর্মীরা উনাদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। উনাদের বিপদে আপদে আমরা সবসময় পাশে থাকবো ইনশাল্লাহ। আসলে এই পরিবারদের ত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশের এই পরিবর্তন এসেছে। আমরা চাই যে কারণে তারা জীবন দিয়েছে, শহীদ হয়েছে, এই কারণগুলো যেন আমরা আমাদের কাজের মাধ্যমে তাদের আকাঙ্ক্ষাগুলো পূরণ করতে পারি, এই সরকার যেন করতে পারে, তাহলেই তাদের আত্মা শান্তি পাবে।
ধর্মমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ বলেন, তাদের আত্মত্যাগের কারণে আজকে আমি দেশে এসেছি, মন্ত্রী হতে পেরেছি। আমি তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। এই শহীদ পরিবার গুলোর পাশে আমি আগেও ছিলাম, ভবিষ্যতেও তাদের পাশে থাকব। তাদের জন্য ভালো কিছু করার চেষ্টা করব ইনশাল্লাহ।

