ঢাকাশুক্রবার , ২৬ জুন ২০২৬
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আইন বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ক্যাম্পাস
  6. খেলাধুলা
  7. গণমাধ্যম
  8. জনপ্রিয় সংবাদ
  9. জাতীয়
  10. ফটো গ্যালারি
  11. বিনোদন
  12. ভি‌ডিও
  13. ভিডিও গ্যালারি
  14. রাজধানী
  15. রাজনীতি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মাদকের আগ্রাসন রুখতে চাই সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধ

admin
জুন ২৬, ২০২৬ ১০:২২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সম্পাদকীয়: মাদকের আগ্রাসন রুখতে চাই সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধ

আজ ২৬ জুন, ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’। বিশ্বজুড়ে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে মানব সভ্যতাকে রক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে প্রতি বছর এই দিনটি পালিত হয়। আমাদের বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দিনটির তাৎপর্য ও গুরুত্ব অপরিসীম। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পাচারকারী চক্রের সক্রিয়তায় আমাদের তরুণ সমাজ আজ এক ভয়াবহ ঝুঁকির সম্মুখীন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের আনাচে-কানাচে, এমনকি প্রত্যন্ত গ্রামীণ জনপদেও মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে ইয়াবা, আইস বা ক্রিস্টাল মেথের মতো মরণনেশা এখন তরুণ ও কিশোরদের হাতে খুব সহজেই পৌঁছে যাচ্ছে। এর ফলে কেবল একটি সম্ভাবনাময় প্রজন্মের শারীরিক ও মানসিক বিকাশই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে না, বরং সমাজে চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাংয়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডও আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। একটি দেশের মূল চালিকাশক্তি তার যুবসমাজ; আর সেই যুবসমাজ যদি মাদকের নীল ছোবলে পথ হারায়, তবে জাতির ভবিষ্যৎ অন্ধকার হতে বাধ্য।

মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযান ও তৎপরতা রয়েছে, এটি অনস্বীকার্য। কিন্তু কেবল প্রশাসনিক পদক্ষেপ বা আইনি কড়াকড়ি দিয়ে এই সর্বনাশা ব্যাধি সমূলে উৎপাটন করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন তৃণমূল পর্যায় থেকে একটি সুদৃঢ় ও সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা। পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সচেতন নাগরিক সমাজকে একযোগে কাজ করতে হবে। সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে—সে বিষয়ে অভিভাবকদের আরও বেশি দায়িত্বশীল ও সচেতন হতে হবে।

পাশাপাশি, মাদকের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে গণমাধ্যম ও স্থানীয় সাংবাদিকতার ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমাজের দর্পণ হিসেবে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতিনিয়ত মাদকের কুফল, পাচারকারীদের দৌরাত্ম্য এবং নেপথ্যের কারিগরদের নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ তুলে ধরতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে সভা-সেমিনার, সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান এবং সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা ও খেলাধুলার প্রসারের মাধ্যমে যুবসমাজকে মাদকের বিকল্প এক সুন্দর জীবনের পথ দেখাতে হবে।

মাদকাসক্তদের কেবল অপরাধী হিসেবে নয়, বরং অসুস্থ মানুষ হিসেবে বিবেচনা করে তাদের চিকিৎসা ও সামাজিক পুনর্বাসনের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করাটাও সমান জরুরি। আজকের এই আন্তর্জাতিক দিবসে আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার হোক— মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি শুধু কাগজে-কলমে বা স্লোগানে নয়, বরং বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করা। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ, সুন্দর ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে দল-মত নির্বিশেষে আমাদের সবাইকে এখনই জেগে উঠতে হবে। সচেতনতার আলো ছড়িয়ে পড়ুক প্রতিটি ঘরে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।