রাজীব সাহা: সার বিক্রেতা থেকে কোটি টাকার মালিক — পর্দার আড়ালের চালবাজি
বাঞ্ছারামপুর প্রতিনিধি |
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের রাজীব সাহা একসময় ছিলেন সাধারণ সারের খুচরা বিক্রেতা। কিন্তু তৎকালীন সংসদ সদস্য ক্যাপ্টেন (অব.) তাজুল ইসলামের ভাগিনা জনি চেয়ারম্যানের ছত্রছায়ায় কয়েক বছরের মধ্যেই পাল্টে যায় তার জীবনচিত্র।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সার, ধান ও চালের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে রাজীব সাহা গড়ে তোলেন একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক। এ নেটওয়ার্কের প্রভাব বিস্তৃত ছিল বাঞ্ছারামপুর, হোমনা, আশুগঞ্জ খাদ্য গুদাম থেকে শুরু করে সিলেট অঞ্চলের সরকারি খাদ্য প্রকল্প পর্যন্ত।
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক পদে থেকে তিনি ‘সজীব এগ্রো ফুড’ নামে চাল বাজারজাত করতেন। তবে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে—এই প্রতিষ্ঠানের কোনো বৈধ লাইসেন্স নেই। চালের বস্তায় “সজীব এগ্রো ফুড, কুষ্টিয়া” লেখা থাকলেও এসব চাল আসে সিরাজগঞ্জ ও আশুগঞ্জের মিল থেকে। কুষ্টিয়ার নামের আড়ালে চাল বিক্রি করে নেন বেশি দাম, আর সেই অতিরিক্ত মুনাফা যায় ব্যক্তিগত পকেটে।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের প্রক্রিয়াতেও ছিল নানা অনিয়ম। অভিযোগ রয়েছে—ধান কেনার পুরো কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করতেন রাজীব সাহা ও জনি চেয়ারম্যান।
বর্তমানে রাজীব সাহার মালিকানায় রয়েছে বাজার এলাকায় ১০ শতক জমির ওপর বহুতল ভবন, নারায়ণগঞ্জ বন্দরে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট এবং বিপুল অঘোষিত সম্পদ।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—কোথা থেকে এলো এই বিপুল সম্পদ? আর তাদের দাবি—জনগণের অর্থ লুটের এই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনা হোক।

