বইয়ের আলোয় ফিরছে বাঞ্ছারামপুর, উদ্বোধন করলেন জেলা প্রশাসক
রোজিনা বেগম | বাঞ্ছারামপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
দীর্ঘ ১৭ বছর বন্ধ থাকার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে নতুন রূপে চালু হয়েছে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গড়ে তোলা আধুনিক গ্রন্থাগার। শিক্ষার্থী, তরুণ ও সাধারণ মানুষের জ্ঞানচর্চা এবং বইপড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে বুধবার (২৪ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় ‘বাঞ্ছারামপুর উপজেলা প্রশাসন গ্রন্থাগার’।
উপজেলা প্রশাসন চত্বরে অবস্থিত পুরোনো ভূমি অফিস ভবন সংস্কার করে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এই গ্রন্থাগারটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবু সাইদ।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রবিউল হাসান ভূঁইয়া, উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ, গণসংহতি আন্দোলনের স্থানীয় সমন্বয়ক শামীম শিবলী, বাঞ্ছারামপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোল্লা মোঃ নাসির আহমেদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনকালে জেলা প্রশাসক মো. আবু সাইদ বলেন, “প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সময়ে মানুষকে বইয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। একটি পাঠাগার শুধু বই পড়ার স্থান নয়, এটি জ্ঞান, চিন্তা ও সৃজনশীলতার কেন্দ্র। নতুন প্রজন্মকে বইমুখী করতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রয়োজন।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম জানান, পাঠাগারে সাহিত্য, ইতিহাস ও সংস্কৃতির বইয়ের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য বিভিন্ন সহায়ক বই রাখা হয়েছে। ধীরে ধীরে বইয়ের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।
স্থানীয় তরুণদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন বিনোদনের প্রতি অতিরিক্ত ঝোঁকের কারণে বই পড়ার অভ্যাস অনেকটাই কমে গেছে। নতুন এই গ্রন্থাগার তরুণদের মধ্যে পাঠাভ্যাস ফিরিয়ে আনতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু কালাম বলেন, “এটি শুধু শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, সব বয়সী মানুষের জন্য একটি জ্ঞানকেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। অবসর সময়ে এখানে এসে বই পড়ার সুযোগ পাওয়া আমাদের জন্য আনন্দের।”
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সপ্তাহের সাত দিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত গ্রন্থাগারটি খোলা থাকবে। ভবিষ্যতে পাঠকদের চাহিদা অনুযায়ী নতুন বই সংগ্রহ ও বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
জানা যায়, ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত উপজেলা পাঠাগারের ভবন ২০০৯ সালে ভেঙে ফেলার পর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ ১৭ বছর পাঠাগারবিহীন ছিল বাঞ্ছারামপুর। পাঠাগারটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছিলেন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা। তাঁর মৃত্যুর পর উদ্যোগটি কিছুটা থেমে গেলেও উপজেলা প্রশাসনের ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় অবশেষে সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ পেয়েছে।

