বাঞ্ছারামপুরে ‘হাজী কাচ্চি’ ঘরকে ৭০ হাজার ও ‘নান্না বিরিয়ানি’কে ৩ হাজার টাকা জরিমানা, ক্ষুব্ধ নাগরিক সমাজ
নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঞ্ছারামপুর
১৪ মে, ২০২৬
বাঞ্ছারামপুর: বিরিয়ানি পছন্দ করেন না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। কর্মব্যস্ত জীবনে সময় বাঁচাতে আমরা প্রায়শই রেস্টুরেন্টের ওপর ভরসা করি। কিন্তু প্লেটে সাজানো লোভনীয় এই খাবারের আড়ালে আমরা আসলে কী খাচ্ছি? তা কি কখনো ভেবে দেখেছি? অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, বাসি খাবার, কিংবা মরা ও অসুস্থ গবাদি পশুর মাংস খেয়ে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত অসুস্থ হয়ে পড়ছে। ঢাকার বাইরের উপজেলাগুলোতেও এখন এই অস্বাস্থ্যকর খাবারের থাবা বিস্তার করেছে। বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সদরে গড়ে ওঠা বেশ কয়েকটি বিরিয়ানির দোকানেও মিলেছে এমন ভয়াবহ চিত্র।
স্থানীয় কসাই ও মাংস ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বাঞ্ছারামপুরের ‘হাজী কাচ্চি ঘর’ ও ‘নান্না বিরিয়ানি’সহ বেশ কয়েকটি বড় দোকানে রান্নার জন্য গরু ও খাসির মাংস আনা হয় গৌরীপুর থেকে। অনুসন্ধানে জানা যায়, এসব মাংসের একটি বড় অংশই ভারত থেকে চোরাই পথে ফ্রিজিং করে আনা ভেজাল ও নিম্নমানের মাংস।
সম্প্রতি রেস্টুরেন্টগুলোর এই চরম অনিয়ম ও জনস্বাস্থ্যের প্রতি অবহেলা নজরে আসে স্থানীয় প্রশাসনের। এরই প্রেক্ষিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ‘হাজী কাচ্চি ঘর’কে ৭০ হাজার টাকা এবং ‘নান্না বিরিয়ানি’কে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
প্রশাসনের এই অভিযানকে সাধুবাদ জানালেও জরিমানার পরিমাণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এলাকার সচেতন নাগরিক মহল। তাদের মতে, মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার এই অপরাধের শাস্তি শুধু নামমাত্র জরিমানা হতে পারে না। অসাধু ব্যবসায়ীদের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা জরুরি।
সচেতন নাগরিকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিশ্বের অনেক দেশেই খাদ্যে ভেজাল ও বিষাক্ত রাসায়নিক মেশানোর অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মতো কঠোর বিধান রয়েছে। অথচ বাংলাদেশে এই অপরাধের শাস্তি কেবলই সামান্য কিছু টাকা জরিমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ। জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তার স্বার্থে এই আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং দোষীদের বড় শাস্তির মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছেন বাঞ্ছারামপুরের সাধারণ মানুষ।
খাবারের মান নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের এমন কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।

